1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা, সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৮৫৮ মামলা, রেকার ও ডাম্পিং ৮১৬ গাড়ির প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে প্রযুক্তি ও বাজেট বাড়ানোর ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ফকিরহাটে জাতীয় দলের গোলকিপার জিয়ার সঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কুশল বিনিময় শৃঙ্খলার স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পাচ্ছে পিজিআর: প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে ২ হাজার ৫৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ অর্থ বিতরণ বাগেরহাটে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত কৃষক দল নেতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৩০ লাখ টাকার হেরোইন ও হাইড্রোসসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানে ২৫ জন গ্রেফতার মেরামত প্রকল্পে ৮৪ লাখ টাকার গাড়ি ভাড়া ও সম্মানি প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রশ্ন

মেরামত প্রকল্পে ৮৪ লাখ টাকার গাড়ি ভাড়া ও সম্মানি প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রশ্ন

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

অর্থনীতি প্রতিবেদক

সরকারের চলমান মিতব্যয়িতা ও ব্যয় সংকোচন নীতির মধ্যেই পন্টুন মেরামত প্রকল্পে সম্মানি, গাড়ি ভাড়া ও ভ্রমণ বিল বাবদ মোট ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। দেশের বিভিন্ন নৌবন্দর ও লঞ্চ টার্মিনালের জরাজীর্ণ পন্টুন সংস্কার ও প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে ৪৮ কোটি ৭ লাখ টাকার এই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে জননিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে গাড়ি ভাড়া ও সভার সম্মানির মতো প্রশাসনিক খাতের ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের মতে, এই ব্যয় সরকারের বর্তমান আর্থিক কৃচ্ছ্রসাধন নীতির পরিপন্থি এবং একটি প্রকৌশলভিত্তিক মেরামত প্রকল্পের জন্য অস্বাভাবিক।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নকালীন সময়ে তদারকি, দরপত্র মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন সভায় অংশ নেওয়ার জন্য নিয়মিত সরকারি কর্মকর্তাদের সম্মানি বাবদ ১২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাড়ি ভাড়া ও ভ্রমণ বিল বাবদ আরও ৭২ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। নিয়মিত বেতনের বাইরে এ দুই খাতেই মোট ৮৪ লাখ টাকার বরাদ্দের বিষয়টি কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নজরে এলে তারা ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিআইডব্লিউটিএর নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিজস্ব আয় বা পরিচালন বাজেট থেকে সম্পন্ন করা উচিত। উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ ধরনের কাজ বাস্তবায়ন এবং সেখানে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় যুক্ত করা নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ কমানো এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে গাড়ি ভাড়া, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সফর এবং অতিরিক্ত সম্মানি প্রদানে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি অবকাঠামো মেরামত প্রকল্পে এসব ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করায় প্রকল্পটির আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি কার্যকর থাকা অবস্থায় পরিবহন সুবিধা ও সভার সম্মানির নামে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রস্তাব সুশাসনের পরিপন্থি।

বিআইডব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির অধীনে সারা দেশে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানের জন্য বর্তমানে মোট ৬৫০টি পন্টুন ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে ১০৫টি পন্টুন চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা জরুরি ভিত্তিতে মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। প্রকল্পের আওতায় গাবতলী, সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ, ভৈরব, ভূঞাপুর, অষ্টগ্রাম, দৌলতদিয়া, কাপ্তাই, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, হোমনা, বরিশাল, বাবুগঞ্জ, চরফ্যাশন, বেড়া ও কাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ টার্মিনালের পন্টুন সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। নৌপথের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই সংস্কার কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি হলেও প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে প্রকল্পটি এখন কমিশনের নিবিড় পর্যালোচনার মুখে পড়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে পন্টুন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই, তবে সম্মানি, গাড়ি ভাড়া ও ভ্রমণ বিলসহ বিতর্কিত ব্যয়ের খাতগুলো অনুমোদনের আগে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং ঘোষিত মিতব্যয়িতা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যয় বাদ দেওয়া বা হ্রাস করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026