রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ৩০০ গ্রাম হেরোইন ও ১৫০ গ্রাম হাইড্রোসসহ মো. আল-আমিন (২২) নামের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে গোদাগাড়ী থানাধীন লালবাগ হেলিপ্যাড এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে র্যাব-৫-এর সদর দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আল-আমিন গোদাগাড়ী উপজেলার রামনগর এলাকার মো. নুরুল ইসলামের পুত্র।
র্যাব-৫ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৫, রাজশাহীর সদর কোম্পানির একটি বিশেষ আভিযানিক দল জানতে পারে যে, গোদাগাড়ী থানার লালবাগ হেলিপ্যাড এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ এক ব্যক্তি অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আল-আমিনের নির্মাণাধীন বসতবাড়ির সামনের রাস্তা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে অবৈধ ৩০০ গ্রাম হেরোইন ও ১৫০ গ্রাম হাইড্রোস উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৫-এর মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট এফএমবিএস আল মোমেন জানান, উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে হেরোইন ও হাইড্রোস সংগ্রহ করে আসছিল। পরবর্তীতে এসব মাদক রাজশাহী জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ ও বিক্রয় করত। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যেই সে নিজের হেফাজতে রেখেছিল বলে স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় এই রুটটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও নতুন মাত্রায় হাইড্রোসের মতো ক্ষতিকর মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটছে, যা যুবসমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। এই ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট গোদাগাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক চোরাচালানের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।