রাজধানী ডেস্ক
দেশে রোগীদের সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রান্তিক পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘স্বাস্থ্য সেবায় উচ্চপ্রযুক্তি’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের কথা তার বক্তব্যে উঠে আসে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীরা এখনো সঠিকভাবে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত ও কার্যকর উন্নতি ঘটাতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের এই বিশেষ লক্ষ্য অর্জনেই এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় উচ্চপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছেও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু কিছু হাসপাতালে আবাসন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে একটি কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগীকে স্থান দিয়ে সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের ওপর এই বাড়তি চাপের কথা স্বীকার করে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
ডেঙ্গু চিকিৎসায় কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, আক্রান্ত রোগীদের সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার জন্য দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই রোগী ছেড়ে দিলে তা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সেমিনারে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ সামাল দিতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক সেবা পৌঁছাতে স্বাস্থ্য বাজেটের সুষম বণ্টন এবং নতুন প্রযুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের আধুনিকায়ন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা ও জনবল বৃদ্ধি করা জরুরি। স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ দ্বিগুণ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বক্তারা বলেন, এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের চিকিৎসা খাতের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।