বাংলাদেশ ডেস্ক
সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কৌশলগত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা ও দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষ এবং শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। পিজিআরকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার ইউনিট হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান, বিদেশী অতিথি এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেশের মর্যাদার প্রতীক হিসেবে এই ইউনিট অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি এখন সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড নিরাপত্তা হুমকি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব আধুনিক ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং সর্বক্ষণিক প্রস্তুতির ওপর তিনি জোর দেন। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে পিজিআর ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানসহ দেশী-বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নিরাপত্তা বলয় আরও নিশ্ছিদ্র করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে পিজিআর সদস্যদের সর্বোচ্চ সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। মো. সাহাবুদ্দিন স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের ঘটনায় পিজিআরের পাঁচজন সদস্যও তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী পিজিআরের সকল সদস্য এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এর আগে রাষ্ট্রপতি পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেক কাটেন এবং রেজিমেন্টের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান, বঙ্গভবনের সচিববৃন্দ, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পিজিআরের কমান্ডার এবং সর্বস্তরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।