বিশেষ প্রতিবেদক
জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ রবিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডাক টিকেট উন্মোচন করা হয়। স্মারক ডাক টিকেটের পাশাপাশি একটি উদ্বোধনী খাম ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ডও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই স্মারক ডাক টিকেট, উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর সংবলিত ডাটাকার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রতি বছর ৬ জুলাই দেশব্যাপী ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হয়ে থাকে। এই দিবসটির প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও বিশেষ স্মারক প্রকাশের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল হাসান। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ প্রতি বছরই বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটাকার্ড প্রকাশ করে থাকে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতি ও পল্লী উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের অবদানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা। একই সঙ্গে দেশের সাধারণ জনগণের মাঝে দিবসটির মূল চেতনা ও তাৎপর্য ব্যাপকভাবে তুলে ধরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গ্রামীণ জনপদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, কুটির শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি আয়ের উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি দেশের মূল অর্থনৈতিক ভিতকে সচল রাখছে। জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি এবং এর স্মারক হিসেবে ডাক টিকেট প্রকাশ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে।
আজ উদ্বোধনের পর থেকেই এই স্মারক ডাক টিকেট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটাকার্ড ঢাকা জিপিও-এর ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে বিক্রি শুরু হবে বলে ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে এগুলো দেশের সব প্রধান জিপিও এবং ডাকঘরগুলোতেও সাধারণ মানুষ ও ডাক টিকেট সংগ্রাহকদের জন্য সহজলভ্য করা হবে। উদ্বোধনী দিনে ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ সিলমোহর বা ক্যানসেলেশনও ব্যবহার করছে ডাক বিভাগ।