আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে এখনো প্রায় ২ হাজার ৪৯৮ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে নেপাল সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রকৃত নিখোঁজের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও অনেক বেশি হতে পারে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চিতাওয়ান জেলায়, যেখান থেকে ২৫৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ১৮৪টি এবং পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ৮২টি মরদেহ পাওয়া গেছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে গোর্খায় ৫৮ জন, নুয়াকোটে ৫২ জন, ধাধলিংয়ে ৫০ জন, তানাহুনে ৩৬ জন এবং রাসুয়া জেলায় ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আকস্মিক এই বন্যার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, রাসুয়া জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া অনেক মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ মাইল দূরে গিয়ে পৌঁছায়। এর ফলে উদ্ধারকাজ ও মরদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জন নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা এবং রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে হেলিকপ্টার। বন্যার আঘাত এত তীব্র ছিল যে, ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও বহু এলাকায় সড়কপথ বা পায়ে হেঁটে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে ওইসব বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে আকাশপথ।
এদিকে মর্মান্তিক এই পরিস্থিতিতে লাশের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় হাসপাতাল ও প্রশাসন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, উদ্ধারকৃত শত শত মরদেহের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় মর্গে পর্যাপ্ত স্থান ও ফ্রিজার না থাকায় পরিচয়হীন মরদেহগুলো ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণের পর সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে স্বজনরা তাদের শনাক্ত করতে পারেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হিমালয়বেষ্টিত নেপালে ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট এই বিপর্যয় দেশের সামগ্রিক জনজীবন ও অর্থনীতিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে।