রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) অনুষ্ঠিত এক ছায়া সংসদ বিতর্কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনাকে কর্মীদের চাঙ্গা করার একটি কৌশল বা ‘পলিটিক্যাল পোস্টারিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং দলটির সম্ভাব্য পুনরুত্থান ঠেকাতে স্বৈরাচারবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ব্যক্তিপূজানির্ভর রাজনীতিকে মূল হাতিয়ার করে ক্ষমতায় টিকে ছিল। একপর্যায়ে দলটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করে একটি কঠোর কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ে গণআন্দোলন দমনকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দলটির চূড়ান্ত রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারা সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তি হারিয়েছে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থাকা উচিত নয় বলে মতপ্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শীর্ষ নেতৃত্বের দেশত্যাগ তাদের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও কাপুরুষোচিত আচরণকে স্পষ্ট করেছে। দলটির নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেলেও এখনও প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নানা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাদের অনুসারীরা সক্রিয় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বৈরাচারবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে সামান্যতম বিভক্তি দেখা দিলে সেই সুযোগে তারা পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত তীব্র প্রতিরোধেরই চূড়ান্ত রূপ ছিল এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ ও অনুমোদন তৎকালীন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসেছে, তাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন না।
‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’ শীর্ষক এই ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মূল প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সংলাপে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোরশেদ এবং বিশিষ্ট সাংবাদিকবৃন্দ। বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও বিজয়ী দলের অংশগ্রহণকারীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।