আন্তর্জাতিক ডেস্ক
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার চুক্তি কার্যকর করার শর্ত হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা দ্ব্যর্থহীনভাবে নাকচ করে দিয়েছে রিয়াদ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি ফাইল মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যে, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করলে এই পারমাণবিক সহায়তা চুক্তি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে না। এর আগে গত মাসে উভয় দেশের শীর্ষ জ্বালানি মন্ত্রীদের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। আমেরিকার এই নতুন শর্ত প্রকাশ্যে আসার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কঠোর ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।
সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল ইস্যুতে রিয়াদের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তেল আবিবের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর কোনো সুযোগ নেই। রিয়াদের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা একটি সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত ও বাণিজ্যিক বিষয়। এই চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত যুক্ত করা অযৌক্তিক এবং তা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ফিলিস্তিন সংকট আজও সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরির বহুমুখী চাপ থাকলেও, সৌদি আরব নিজেদের জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক নেতৃত্ব বজায় রাখতে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রশ্নে অবিচল রয়েছে। বিশেষ করে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে কোনো উদ্যোগ রিয়াদ এড়িয়ে চলবে, তা এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি কৌশলগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।