আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রার্থী ব্যারিস্টার ইফতিখার গিলানি নির্বাচনে জয়লাভ করে পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মুজাফফরাবাদে আজাদ কাশ্মীর আইনসভার অধিবেশনে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৩৫ ভোট পেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থী সরদার মুখতার খান এই নির্বাচনে ১৪ ভোট লাভ করেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্পিকার চৌধুরী তারিক ফারুকের সভাপতিত্বে আজাদ কাশ্মীর আইনসভায় এই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আইনসভায় একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন, যা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়। অধিবেশনে পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার সভাপতি শাহ গুলাম কাদির অনুপস্থিত থাকলেও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই দেওয়া প্রথম বক্তব্যে ব্যারিস্টার ইফতিখার গিলানি দল-মত নির্বিশেষে সকল পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ আজাদ কাশ্মীর গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অঞ্চলে সুশাসনের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে এবং তার প্রশাসন এই চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের পথে হাঁটবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক সংস্কারকে তার সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা হবে যাতে সাধারণ জনগণ সহজে মানসম্মত সেবা লাভ করতে পারে।
গিলানি তার প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে ‘জনগণের সরকার’ হিসেবে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার সরকারের গৃহীত উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই পরিবর্তনের সুফল সাধারণ মানুষ এবং সরকারি চাকরিজীবী উভয়েই প্রত্যক্ষ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নতুন এই প্রধানমন্ত্রী মুজাফফরাবাদের একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আইন পেশা, শিক্ষা এবং দীর্ঘ সংসদীয় রাজনীতিতে তার গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা ইসলামাবাদে সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন এবং মর্যাদাপূর্ণ বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। যুক্তরাজ্য থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি ইসলামাবাদে আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং পরবর্তীতে সফলভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আস্থায় নেওয়ার ক্ষমতা নতুন সরকারের কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।