নিজস্ব প্রতিবেদক
চেক ডিজঅনারের এক মামলায় করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষায় জালিয়াতি কাণ্ডসহ বিভিন্ন কারণে আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৬ জুলাই বাহার ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী হাফিজ উদ্দিন বাহার সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগ এনে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, নির্মাণসামগ্রী ক্রয়ের বকেয়া বাবদ সাহেদ উত্তরা ব্যাংকের নবাবপুর শাখার একটি চেক প্রদান করেন, যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ফেরৎ দেয়। পরবর্তীতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরও অর্থ পরিশোধ না করায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছরের ৩ মে আসামির অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রোববার আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উলেখ্য, গত ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত অপর এক মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ। ২০২০ সালে রিজেন্ট হাসপাতালে পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া করোনা সনদ দেওয়ার অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় র্যাব। এরপর ভারতের সীমান্তে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাহেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে পাঁচটিতে তিনি সাজাপ্রাপ্ত। দীর্ঘ কারাবাস ও ধাপে ধাপে বিভিন্ন মামলায় জামিন পেয়ে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন, তবে সাম্প্রতিক পরোয়ানায় তিনি পুনরায় আইনের আওতায় এলেন।