বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান সংকট ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণে বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে পরিবেশ, পানি ও নগর পরিকল্পনা খাতের বিষেশজ্ঞরা দেশের সার্বিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপিত নানা সুপারিশ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ‘ফুটস্টেপস বাংলাদেশ’-এর একটি প্রতিনিধি দলসহ পরিবেশ, পানিসম্পদ ও প্রকৌশল খাতের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। সভায় তারা দেশের বিদ্যমান পানি খাতের নীতিগত ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে একাধিক বাস্তবমুখী ও দূরদর্শী প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
বৈঠকে আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল দ্রুত নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সামলে কীভাবে একটি কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা তৈরি করা যায়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের ফলে প্রধান শহরগুলোতে পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই সমস্যা দূরীকরণে নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিল্প ও গৃহস্থালির বর্জ্য পানি আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিশোধন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইনওয়াটার হারভেস্টিং) কার্যকর কাঠামো চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়।
নদী ও খাল দখলের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সভায় প্রাকৃতিক জলাধার ও খালগুলো অবিলম্বে পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নদীর নাব্য রক্ষা ও উপকূলীয় বাঁধের স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রকৌশল ও দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা। তারা স্পষ্ট করেন যে, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনা একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সামলানো সম্ভব নয়; এজন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শক্তিশালী আন্তঃসংস্থা সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের এসব সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও অভিজ্ঞতালব্ধ সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণের গুরুত্ব স্বীকার করে তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বাস্তবায়নে সরকার ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন সভায় অংশ নেন।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ ও অংশীদারদের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ট্রাস্টি ও হেড অব পার্টনারশিপস ফাসবীর এস্কান্দার, সভাপতি শাহ রাফায়াত চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তাকী ইয়াসির, বিশ্বব্যাংকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রেড অরেঞ্জের পরিচালক অলোক কুমার মজুমদার, উপ-পরিচালক সামিউল ইসলাম, ইয়ুথ ফর এনডিসির নির্বাহী পরিচালক আমানুল্লাহ পরাগ, গারবেজম্যানের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিদ উদ্দিন শুভ এবং নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনাবিদ এস এম মেহেদী হাসান।