ক্রীড়া প্রতিবেদক
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র তাঁর বর্তমান ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সান্তোসের জার্সিতে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, এর পর ক্যারিয়ারের পথচলা কোন দিকে যাবে বা ফুটবলকে বিদায় জানাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এই তারকা ফুটবলার।
স্থানীয় সময় সোমবার তাঁর সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট নেইমার জুনিয়র’-এর ষষ্ঠ বার্ষিক নিলাম অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এ কথা জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ৩৩ বছর বয়সী এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জানান, তিনি এখনই পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন না। তবে ডিসেম্বরে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করবেন। নেইমার বলেন, “আমি কতদিন ফুটবল খেলে যাব, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এখনই থামার ইচ্ছা নেই, তবে কতদিন পারফর্ম করতে পারব সেটাও অনিশ্চিত। সান্তোসের সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার চুক্তি রয়েছে এবং আমি সেই মেয়াদ পূর্ণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চুক্তি শেষ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেব সান্তোসে থেকে যাব, অন্য কোনো ক্লাবে যোগ দেব, নাকি খেলা ছেড়ে দেব। বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এখনও পর্যাপ্ত সময় রয়েছে।”
এদিকে কোপা দো ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে আগামী বুধবার রেমোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সান্তোস। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে সান্তোসের মূল দল সোমবারই বিলেমে পৌঁছালেও নির্ধারিত দাতব্য সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারেননি নেইমার। তবে মঙ্গলবার নিজস্ব ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি। ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান এই তারকা।
নিজের শারীরিক ফিটনেস প্রসঙ্গে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে নেইমার জানান, তিনি ক্রমশ পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাচ্ছেন এবং মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রেমোর বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচটিকে দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন নেইমার। পেশাদার ক্যারিয়ারে ফুটবল মাঠের বিভিন্ন সাফল্যের চেয়েও নিজ দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলাকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য গঠিত এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।