আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কেনস্কফ পাহাড়ি এলাকা থেকে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হাতে অপহৃত ৬ শিশু ও ৭ জন নারীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় এই জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ। তবে দেশটিতে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্যাংগুলোর দৌরাত্ম্য দমনে আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও জোরদার করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের নিকটবর্তী কেনস্কফ পাহাড়ি এলাকায় সংঘটিত একটি সশস্ত্র গ্যাংয়ের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হন। ওই একই হামলায় ৫০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষকে অপহরণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া শিশুদের মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী তিনজন শিশু, একজন সাত বছরের শিশু এবং দুইজন কিশোরী রয়েছে বলে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইউনিসেফ হাইতির উপপ্রতিনিধি ইয়ানিগ ডুসার্ট এ বিষয়ে জানিয়েছেন, এই অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনাটি দেশজুড়ে শিশুদের ওপর নেমে আসা চরম ঝুঁকির ভয়াবহতা পুনরায় স্পষ্ট করে তুলেছে। গত কয়েক মাস ধরে হাইতির বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র গ্যাংগুলোর তৎপরতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা।
কেনস্কফের এই ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রতিনিধি জানান, কেনস্কফের এই হামলার কারণে স্থানীয় অন্তত ২৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাইতিতে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই শিশু। সংঘাত ও সহিংসতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক সংকটে রয়েছে দেশটি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই হাইতিতে নারী ও শিশুদের ওপর ৫ হাজার ৫শ-র বেশি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র গ্যাংগুলো দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাইতির সাধারণ মানুষের জীবন ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।