চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে অস্ত্র ও হত্যা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে জেলা পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যা মামলা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পৃথক দুটি মামলায় পুলিশ ডেভিড ইমনের সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ প্রতিটি মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অস্ত্র মামলায় ইমনের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অপর চার সহযোগীকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আদেশের পরপরই আসামিদের জেলা পুলিশ হেফাজতে এনে মূল নেটওয়ার্ক, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রের মজুত সংক্রান্ত তথ্যের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫) ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত মুসার ছেলে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অবৈধ অস্ত্র বহন এবং চাঁদাবাজিসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এই সন্ত্রাসীকে গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রধান মো. মাসুদ জানান, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ভোরে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় তৈরি এলজি এবং বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই অঞ্চলের একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সহিংসতায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।