1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
তরুণ উদ্ভাবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ, এমআইএসটির বিশ্বজয়ী দলকে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রবাহের সুরক্ষায় মিডিয়া কমিশন গঠন ও প্রেস আইন সংশোধনের উদ্যোগ যৌতুক ও মাদক প্রতিরোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরির তাগিদ রাজনীতিতে অশালীন ভাষা ব্যবহার সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী: রিজভী মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বললেন সৌদি যুবরাজ বেসরকারি মাদরাসায় বড় সিদ্ধান্ত, অ্যাডহক কমিটি বাতিল পাইপলাইনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের বানারীপাড়ায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ দেশজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ‘গুলশানের চামেলি’ চলচ্চিত্রে বাঁধন: সমালোচনার জবাব ও অবস্থান স্পষ্ট

দ্রুত চুক্তির শর্তে ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন ট্রাম্প

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে পরিকল্পিত সামরিক আক্রমণ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হামলা বাতিলের সিদ্ধান্তটি স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট ও দ্রুততম চুক্তিতে উপনীত হওয়ার শর্তসাপেক্ষ সিদ্ধান্তের অংশ বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক আলোচনার আবেদনের পর এই সামরিক পদক্ষেপ থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা স্থিতিশীল রাখা এবং একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের টিকে থাকার সার্বিক স্বার্থে তিনি সামরিক হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখার জন্য ইরানকে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। চুক্তির মূল অবকাঠামো বা কাঠামোগত শর্তাবলীর মধ্যে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে, সম্পূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত হুমকির কার্যকর অবসান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের সাথে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও হামলা থেকে বিরত থাকতে সম্মতি প্রকাশ করেছে বলে মার্কিন প্রশাসনের সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। সম্ভাব্য সংঘাত পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে ওই অঞ্চলে বসবাসরত নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি বজায় রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী দেশের সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এদিকে মার্কিন হামলার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বিবেচনা করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। সামরিক সূত্রের ধারণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ডে পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তবে সার্বিক পরিস্থিতি একটি সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সংকট উত্তরণে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ স্থাপন করেছে। সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে চলমান উত্তেজনার নিরসন ঘটানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষের ওপরই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর মূল উদ্বেগ হলো—ইরানের শক্তি ও জ্বালানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানো হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে।

চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের তরফ থেকেও কড়া বক্তব্য ও বার্তা প্রদান করা হয়েছে। তেহরান সতর্ক করে দিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, ওয়াশিংটনকে কোনো প্রকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা প্রদানকারী যে কোনো আঞ্চলিক রাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের আওতায় আসবে। দেশটির পররাষ্ট্র নীতি ও নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখতে তারা যে কোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ও আনুপাতিক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত।

মার্কিন প্রশাসনের এই হঠাৎ সামরিক কৌশল পরিবর্তন এবং কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী মুক্ত রাখা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে সকল পক্ষকে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। সার্বিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026