বিশেষ প্রতিবেদক
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতা মো. নুরুল হক নুর দাবি করেছেন, অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা তার ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার অপচেষ্টা চালাচ্ছ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে জানান, গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে তার সাইবার সিকিউরিটি বিঘ্নিত করার এই প্রক্রিয়া চলছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রশাসনিক ব্যক্তির সামাজিক মাধ্যম বা যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সাইবার আক্রমণের এ ঘটনা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাইবার ট্রাবল এবং সাইবার সিকিউরিটি সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি নুরুল হক নুর তার নাম ব্যবহার করে সংগঠিত যেকোনো অনিয়ম বা অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রভাব খাটিয়ে কিংবা তার রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তাকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। জনপ্রতিনিধিদের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অসাধু চক্রের সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বন্ধে এ ধরনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা ও বাউফল অঞ্চলের গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি গুরুতর সমস্যার কথা তুলে ধরেন এই প্রতিমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘দশমিনা এক্সপ্রেস’ নামে একটি পরিবহন সংস্থা উক্ত রুটে ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন ও অনভিজ্ঞ চালক দিয়ে যাত্রী পরিবহন পরিচালনা করছে। এর ফলে ওই রুটে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের ফিটনেসবিহীন গণপরিবহন কীভাবে সড়ক-মহাড়কে চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তাও চরম হুমকিতে পড়েছে।
এই পরিবহন সংস্থা কিংবা এর মালিকপক্ষের সাথে তার কোনো ধরনের দূরতম সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেন নুর। পটুয়াখালীর ওই রুটে গণপরিবহনের অব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট অসাধু পরিবহন মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যদি এই বিষয়ে কোনো মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন, তবে তাদের সার্বিক আইনি ও দাপ্তরিক সহযোগিতা প্রদান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় পর্যায়ে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল থাকবে বলেও আভাস মেলে তার বক্তব্যে।