রাজধানী ডেস্ক
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন ও চিঠি জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১) উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামানকে জানানো হয়। নির্দেশক্রমে জারি করা ওই পত্রে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা ও হাসপাতাল পরিচালনা বিধিমালা অনুসরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা মান বৃদ্ধি, প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা তদারকির লক্ষ্যে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়া হলো।
দেশের অন্যতম শীর্ষ এবং প্রাচীনতম সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে হাজার হাজার রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবার মান পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলার বিষয়টি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। পদাধিকার ও আঞ্চলিক গুরুত্বের বিচারে সংশ্লিষ্ট আসনের জাতীয় সংসদ সদস্যকে এই ধরনের প্রধান সরকারি হাসপাতালের কমিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া একটি প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।
মনোনীত সভাপতি মির্জা আব্বাস বর্তমানে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ‘প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে’ চিকিৎসাধীন আছেন। তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জটিল শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে তিনি বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে উঠছেন। তার চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ হলে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষস্থানীয় এই পদে নতুন সভাপতি মনোনীত হওয়ায় হাসপাতালের সার্বিক নীতি-নির্ধারণী ও পরিচালনা প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক গতিশীলতা আসবে। তবে সভাপতি দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার অনুপস্থিতিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রশাসনিক সভা আহ্বান, জরুরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দৈনন্দিন তদারকি কার্যক্রম কীভাবে সম্পন্ন হবে—তা নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় রক্ষা করা প্রয়োজন হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুতই কার্যনির্বাহী কাঠামোর মাধ্যমে কমিটির অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।