খেলাধূলা ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) কারাতে বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসির আহমেদ জিমের (১৬) আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিকেএসপি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল ডিঙানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ইয়াসীন। পরে ২৯ জুলাই রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে প্রশিক্ষণার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত এ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উন্মোচনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ, বি, এম এহছানুল মামুন এবং সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হাসান। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ অধিশাখার উপসচিব মো. মিজানুর রহমান কমিটিতে সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিতের মাধ্যমে ঘটনার উৎস চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করা এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজনে কমিটি যেকোনো নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে।
তদন্ত কমিটির গঠন নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের একাংশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিকেএসপির অভ্যন্তরে সংঘটিত একটি ঘটনার তদন্তে খোদ ওই প্রতিষ্ঠানেরই কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকায় কমিটির শতভাগ নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের মতে, স্বচ্ছতার স্বার্থে বিকেএসপি বহির্ভূত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে তদন্ত পরিচালনা করা অধিক যুক্তিযুক্ত ছিল।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, বিকেএসপিতে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনা নজিরবিহীন ও অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার পেছনে প্রশাসনিক অবহেলা, নিরাপত্তা ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, দেশের জাতীয় ক্রীড়াবিদ তৈরির প্রধান কেন্দ্র বিকেএসপিতে কঠোর শৃঙ্খলা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকার কথা। নৈশকালীন সময়ে সুরক্ষিত সীমানা প্রাচীরে বিদ্যুতায়িত হওয়ার মতো পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে রাতের বেলা অরক্ষিত স্থানে যাতায়াত করল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে এটি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি অবকাঠামোগত ও নিরাপত্তাজনিত চরম গাফিলতির ফল।