সারাদেশ ডেস্ক
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম রোগে আক্রান্ত সন্দেহে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে সোমবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০ জনে। এর মধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী রিপোর্ট করা হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও চিকিৎসকদের পর্যালোচনায় এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৪০৮ জন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তের সংখ্যা ১১৩ জন।
আক্রান্তদের চিকিৎসার তথ্য পর্যালোচনায় জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২৮ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৯ হাজার ১৮৯ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের বড় একটি অংশ শিশু হওয়ায় বিশেষায়িত শিশু ওয়ার্ড ও আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে অতিরিক্ত শয্যা ও ওষুধের সংস্থান করা হচ্ছে।
রোগের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে প্রাণহানির চিত্র বেশ আশঙ্কাজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত হাম সন্দেহে মোট ৭৫১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যায় তিন শিশু। অপরদিকে, ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রমণ করে। প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচি এবং পুষ্টি সহায়তার হার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। আক্রান্তদের দ্রুত কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে টিকাদান কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বাড়িয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।