রাজনীতি ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব একক কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, বরং এটি ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রাজধানীতে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব), বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) শাখার আয়োজনে ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে এক দফায় রূপ নেওয়া জুলাই বিপ্লবের পেছনে বিএনপির গত ১৭ বছরের আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। বিএনপির সামাজিক ভিত্তিকে এই আন্দোলনে কাজে লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিতে শুরু থেকেই বিএনপির পূর্ণ সমর্থন ছিল। আন্দোলন ব্যর্থ হলে অনেককেই কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকার মানুষের কথা বলা ও রাজনীতির অধিকার খর্ব করে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের ওপর নানা জুলুম, নির্যাতন ও রিমান্ড পরিচালনা করা হলেও প্রতিপক্ষ কখনো শালীনতার সীমা অতিক্রম করে বক্তব্য দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
স্বাস্থ্যসেবায় নার্সদের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন যে, সরকার সবসময় নার্সদের সার্বিক কল্যাণ ও ন্যায্য দাবি-দাওয়ার পাশে থাকবে।
ন্যাবের বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব সুজন মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে দেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং সহ-সম্পাদক ও ন্যাবের সভাপতি জাহানারা খাতুন।