খেলাধূলা ডেস্ক
দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাথে আর্থিক সম্পর্ক বজায় থাকছে অজিত রাহানের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর বিসিসিআইয়ের নিয়মিত পেনশন নীতিমালার আওতায় সর্বোচ্চ স্তরের আর্থিক সুবিধাদি পাবেন ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক। বোর্ডের বিধি অনুযায়ী ৫০টিরও বেশি টেস্ট ম্যাচে অংশ নেওয়া ক্রিকেটাররা সর্বোচ্চ শ্রেণির অবসর ভাতার যোগ্য বলে বিবেচিত হন।
গত ৩০ জুলাই সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন রাহানে। ২০১১ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) ক্রিকেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদার্পণ করা এই ডানহাতি ব্যাটার ভারতের হয়ে ৮৫টি টেস্ট, ৯০টি ওয়নডে এবং ২০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। জাতীয় দলের মিডল অর্ডারে দীর্ঘ দিন ধরে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বিসিসিআইয়ের বর্তমান পেনশন বিধিমালা অনুসারে ৫০টির বেশি টেস্ট খেলা সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ স্তরের ভাতা প্রযোজ্য হয়। সেই অনুযায়ী রাহানে প্রতি মাসে ৭০ হাজার ভারতীয় রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০ হাজার টাকা) মাসিক পেনশন পাবেন।
তবে এই পেনশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বোর্ডের বিশেষ শর্তাবলী প্রযোজ্য থাকবে। ভবিষ্যতে রাহানে যদি বিসিসিআই বা এর অধিভুক্ত কোনো সংস্থায় কোচ, জাতীয় দলের নির্বাচক কিংবা অন্য কোনো বেতনভুক্ত পদে নিযুক্ত হন, তবে উক্ত দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তাঁর এই পেনশন সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। পরবর্তীতে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে পুনরায় নিয়ম অনুযায়ী এই ভাতা চালু করা হবে।
ভারতের সাবেক ও বর্তমান আন্তর্জাতিক এবং প্রথম শ্রেণির ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য বিসিসিআই দীর্ঘ দিন ধরেই একটি সুনির্দিষ্ট পেনশন কাঠামো পরিচালনা করে আসছে। ২০২২ সালে এই পেনশন সুবিধায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়। সাবেক সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন বোর্ড ৫০টির বেশি টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের মাসিক পেনশন সুবিধা ৫০ হাজার রুপি থেকে বৃদ্ধি করে ৭০ হাজার রুপি করে। একই সংস্কারে ২৫ থেকে ৫০টি টেস্টে অংশ নেওয়া সাবেক খেলোয়াড়দের ভাতার পরিমাণও ৩৭ হাজার ৫০০ রুপি থেকে বৃদ্ধি করে ৬০ হাজার রুপিতে উন্নীত করা হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাহানের ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ২০২০-২১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে। নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি ব্যক্তিগত কারণে সফর ত্যাগ করার পর রাহানে অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ব্রিসবেনের গাব্বায় ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ জিতে ভারত ঐতিহ্যবাহী বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি নিজেদের দখলে রাখে।
খেলোয়াড়ি জীবন পরবর্তী সময়ে রাহানে কোচিং, ধারাভাষ্য বা ক্রিকেট প্রশাসনিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন কি না সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে মাঠের খেলা থেকে সরে দাঁড়ালেও বিসিসিআইয়ের এই কাঠামোগত সুবিধার মাধ্যমে প্রাক্তন এই অধিনায়কের সাথে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাতিষ্ঠানিক মেলবন্ধন অব্যাহত থাকছে।