বাংলাদেশ ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের মূর্তমান প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদান অনস্বীকার্য। শত জুলুম, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সহ্য করেও তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সায়েমা জেরিন রচিত ‘জুলাই আন্দোলন এবং গুলিবিদ্ধ দুই চোখ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর আলোকপাত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পুরনো কোনো শাসনব্যবস্থা বা কাঠামো পরিবর্তনের পর নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতনের জন্য রাজপথের আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রয়োজন হলেও রাষ্ট্র পুনর্গঠন পর্বে রাজনৈতিক পরিপক্কতা, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শিতা অপরিহার্য। অর্ধেক গুণাবলি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। দেশ ও সমাজকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হলে রাষ্ট্রনায়কদের গঠনমূলক মানসিকতার পরিচয় দিতে হয়।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ঐতিহাসিক গণআন্দোলন ও রাজপথের ফয়সালার মাধ্যমে বিগত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে জনগণের প্রত্যাশার মুখে দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে বিজয়ী সরকারের দায়িত্বে থেকে কোনো প্রকার প্রতিহিংসামূলক আচরণ বা ভাষার প্রয়োগ অনুচিত। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি সর্বজনীন, সেবামুখী ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন করা। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি পুনর্নবীকরণকৃত ফ্যাসিবাদের ভাষা ব্যবহার করতে চায়, তবে তা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি নির্দেশ করে।
একটি সক্রিয় ও কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় সংসদেই যৌক্তিক বিতর্ক আয়োজিত হবে এবং বিরোধী দল সরকারকে বস্তুনিষ্ঠ জবাবদিহিতার আওতায় আনবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা রাজপথে কৃত্রিম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সমাজে বিভাজন তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন যে, সমাজ থেকে ফ্যাসিবাদী চিন্তা ও অন্ধত্ব পুরোপুরি দূর করা না গেলে গণতান্ত্রিক অর্জন বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাত্পর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বর্ধিত রূপ। উভয় সংগ্রামের মূল সুর ও উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক সাম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তাই কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের সংযোগকে বিচ্ছিন্ন বা বিতর্কিত করতে না পারে, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল নাগরিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখার তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান এবং বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক খোন্দকার মাশুকুর রহমান। এছাড়া মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এবং গুরুতর আহত আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধারা উপস্থিত থেকে তাঁদের প্রত্যক্ষ অনুভূতি ও সংগ্রামের স্মৃতি ব্যক্ত করেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংস্কৃতি কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।