খেলাধূলা ডেস্ক
বিশ্বকাপসহ শীর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাব থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বৈশ্বিক ফুটবলের তীব্র বিরোধিতা এবং ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে এই পরিকল্পনা বাতিল করা হলেও ফিফা সভাপতির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে ইউনিয়ন অব ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (উয়েফা)। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ফিফার একক ও বিতর্কিত এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে তারা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণসহ নানা ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল।
ইউরোপীয় ফুটবলের পরিচালনা পর্ষদ উয়েফা বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়, ফিফা এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বাতিল না করলে তাদের অধিভুক্ত ৫৫টি সদস্য দেশ বিশ্বকাপ বর্জন করত। ফিফার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামের এই বিতর্কিত প্রকল্পের মাধ্যমে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তিগত তহবিলের হাতে তুলে দেওয়ার একটি চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশ কুশনারের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে বিশ্বকাপ স্বত্বের বড় একটি শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল।
পরিকল্পনাটির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে কুশনার ছাড়াও ব্যবসায়ী গ্রেগ মাফেই, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান এবং ওপেন ইকোনমিক্সের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠায় উয়েফা। এসব চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল পরিচালনা পর্ষদ এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া, সালিশি প্রক্রিয়া শুরু করা এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পাঠানো একটি প্রাতিষ্ঠানিক চিঠিতে উয়েফা উল্লেখ করে, চুক্তি ও প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আইনি পর্যালোচনার অধীন। ফলে ফিফার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা সমস্ত ইলেকট্রনিক নথি, ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য অবিলম্বে সংরক্ষণ করতে বলা হয়। উয়েফা ফিফাকে সতর্ক করে দেয় যে, প্রাসঙ্গিক কোনো নথি মোছা, পরিবর্তন করা, গোপন করা বা ধ্বংস করা আইন অনুযায়ী প্রমাণ লোপাটের সামিল বলে গণ্য হবে এবং এর প্রেক্ষিতে আরও বড় ধরনের আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে।
উয়েফা তাদের চিঠিতে ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো ছাড়াও ফুটবলের বৈশ্বিক উন্নয়ন প্রধান আর্সেন ভেঙ্গার, ফিফা সেক্রেটারি জেনারেল মাত্তিয়াস গ্রাফস্ট্রুম এবং চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামরের অধীনে থাকা সকল প্রাসঙ্গিক দাপ্তরিক তথ্য ও যোগাযোগ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে। উয়েফার কঠোর অবস্থান এবং সদস্য দেশগুলোর সম্ভাব্য বয়কটের মুখে শেষ পর্যন্ত চুক্তি প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করা হলেও দুই শীর্ষ সংস্থার মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিচালন ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।