আইন আদালত ডেস্ক
সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. দেওয়ান আশিক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, এস কে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পর দুদক তার প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিস্তারিত বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছিল। দুদকের পক্ষ থেকে আদেশের ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তিনি তা জমা দেননি।
সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ায় ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ধারায় আইনি পদক্ষেপ নেয় সংস্থাটি। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে কমিশন কার্যালয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করে ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। বিচারকাজ পরিচালনাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা করা হয়। গত ১৫ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি বা রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী না দেওয়ার অভিযোগে এই সাজা দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। নির্ধারিত সময়ে সম্পদের হিসাব না দেওয়া আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা এ রায়ের মাধ্যমে পুনরায় প্রতিফলিত হলো।