রাজধানী ডেস্ক
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার লক্ষ্য জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-১৪ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিএন কলেজে ‘স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এর পুরস্কার বিতরণী এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম গতিশীল হবে। তরুণদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিএনসিসির নাগরিক সেবাসমূহ সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সায়েন্স প্রজেক্ট ও ধারণাগুলো নগরের ওয়ার্ড ও মহল্লা পর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানবিষয়ক উদ্ভাবনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সেরা প্রকল্পগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। আয়োজকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের উদ্যোগ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও ইতিবাচক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পুরস্কার বিতরণ পর্ব শেষে নৌবাহিনী কলেজ, ডেন্টাল কলেজ এবং নেভি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে আধুনিক ডাস্টবিন ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল সিটি কর্পোরেশনের একক প্রচেষ্টায় ঢাকাকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন। এর জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অভ্যাসের পরিবর্তন প্রয়োজন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এ সচেতনতা ছড়ানো হলে তা দীর্ঘমেয়াদে পুরো শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অনুশীলনে উদ্বুদ্ধ করবে।
বিএন কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন এম. ইসমাইল মজুমদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডোর হুমায়ুন কবীর, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।