বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব গভীর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক বিনিময়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। মঙ্গলবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত সাংস্কৃতিক বিনিময়কে চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাক্ষাতকালে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও বেগবান ও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এই ধারা অব্যাহত রেখে আগামীতে যৌথ উদযাপনের মাধ্যমে বন্ধন আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বর্তমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনা রাষ্ট্রদূতের উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে জানানো হয় যে, বিগত বছরগুলোতে দুই দেশের যৌথ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ইতিবাচক ফলাফল বয়ে এনেছে। সামনে এই সহযোগিতার পরিধি আরও বৃদ্ধি করার ব্যাপারেও বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
আলোচনায় দুই দেশের সংস্কৃতি ও শিল্পকলার প্রসারের পাশাপাশি অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ) সংরক্ষণে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়। সাংস্কৃতিক দল বিনিময়, যৌথ প্রদর্শনী আয়োজন এবং দুই দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আদান-প্রদানের বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
উক্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।