স্পোর্টস ডেস্ক
ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে শিরোপা হারানোর হতাশার মধ্যেই নিজের জন্মস্থান পুখাতোতে অবস্থান শেষে গোপনে শহর ছেড়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। গত শনিবার রাতে কারো সঙ্গে যোগাযোগ না করে হঠাৎ পুখাতো ত্যাগ করা এবং বাড়ির দরজায় চিরকুট রেখে যাওয়ার ঘটনাটি ক্রীড়াঙ্গনসহ তাঁর ভক্তদের মধ্যে চরম অস্বস্তি, বিশৃঙ্খলা ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে। কোচের এই খামখেয়ালি আচরণ এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং সমর্থকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
তথ্যমতে, স্পেনের কাছে চূড়ান্ত লড়াইয়ে পরাজয়ের পর সান্তা ফে প্রদেশের পুখাতো শহরে নিজ জন্মস্থানে ফিরে যান ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ। সেখানে অবস্থানকালে শত শত অনুরাগী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসলেও এবং শহরের সার্বিক জনজীবনে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিলেও সার্বিক পরিস্থিতি সামলাতে স্কালোনি ব্যর্থ হন। প্রায় তিন হাজার জনসংখ্যার এই ছোট শহরে সাধারণ মানুষের সমাগম বাড়লেও কোচের কোনো স্পষ্ট অবস্থান ছিল না। নিজের সাবেক ক্লাব অ্যালামনি দে কাসিলদার খেলা দেখা কিংবা সাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে সময় কাটালেও জাতীয় দলের সাম্প্রতিক বিপর্যয় ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে তিনি কার্যত নীরব ছিলেন।
বিতর্কের চরম পর্যায় ঘটে শনিবার রাতে, যখন কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি হঠাৎ এলাকা ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় বাবা-মায়ের বাড়ির দরজায় একটি সংক্ষিপ্ত চিরকুট সাঁটিয়ে দিয়ে যান, যেখানে লেখা ছিল তিনি আগের রাতেই চলে গেছেন এবং কেউ যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা না করেন। জাতীয় দলের একজন কোচের এভাবে গোপনে বিদায় নেওয়ার পদ্ধতিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং পেশাদারিত্বের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে পুখাতোর স্থানীয় গণমাধ্যম চ্যানেল ২-এ এই ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় অধিবাসী ও ভক্তদের মাঝে চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে স্কালোনির সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্পেনের মায়োর্কায় পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে থাকবেন বলে জানা গেলেও, জাতীয় দলের ডাগআউটে তাঁর ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর চুক্তির মেয়াদ থাকলেও তা আদৌ নবায়ন হবে কি না, সে বিষয়ে ফুটবল সংস্থা বা স্কালোনির পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত মেলেনি। বিশ্বমঞ্চে পরাজয়ের পর পেশাদারী আলোচনার পরিবর্তে এই ধরণের রহস্যজনক অন্তর্ধান আর্জেন্টিনার পরবর্তী ফিফা উইন্ডোর প্রস্তুতিকে গভীরভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।