নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে’ (সিইআইজেড) আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চীনা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানও নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে কারখানা উৎপাদনে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এসব তথ্য জানান। একই সাথে তিনি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন।
বক্তব্যে বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, সরকারের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও অঞ্চলটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তিন থেকে পাঁচ বছর সময়সীমার কথা জানানো হয়েছিল। তবে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ত্বরান্বিত করতে সরকার আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানায় উৎপাদন শুরুর চ্যালেঞ্জ নির্ধারণ করে দেয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ ও গুরুত্ব তুলে ধরে আশিক চৌধুরী বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বৈদেশিক বিনিয়োগের বিকল্প নেই। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু নিজেরাই লাভবান হবেন না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন।
প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের ইতিবাচক ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আনোয়ারা ও চট্টগ্রামের অধিবাসীদের চীনা বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলটির কার্যক্রম দ্রুত শুরু হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ পুরো অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও জানান, বিদেশি বা দেশি বিনিয়োগকারীরা কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে তা সমাধান করবে। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশে অধিক হারে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।