বিশেষ প্রতিবেদক
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে দেশটির সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে মালেতে আয়োজিত বর্ণাঢ্য প্যারেডে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকালে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার এই দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার মালদ্বীপের রাজধানী মালের রিপাবলিক স্কয়ারে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের (এমএনডিএফ) বিভিন্ন শাখার অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সামরিক প্রদর্শনী পরিবেশন করা হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে মালদ্বীপের সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় গৌরব প্রদর্শন করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শনের পাশাপাশি দেশটির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবলিত বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। দিনব্যাপী এই উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে আকাশজুড়ে আয়োজিত বর্ণিল আতশবাজি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে।
স্বাধীনতা দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে একাধিক পরিবেশবিষয়ক কার্যক্রমে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর উদ্যোগে ঘোষিত ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রিজ প্রজেক্ট’-এর আওতায় মালের লোনুজিয়ারাই পার্কে একটি ক্রিস্টিনা বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকালে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী আলী শরীফ উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে সবুজায়ন প্রসারে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সময়োপযোগী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে তিনি টেকসই পরিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশের নিজস্ব পরিবেশবান্ধব ও বনায়ন কর্মসূচির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক বিস্তৃত রূপরেখা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির অভিন্নতার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের শীর্ষ নেতৃত্ব কর্তৃক গৃহীত এসব সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ পরিবেশগত স্থায়িত্ব আনয়ন, সক্রিয় জলবায়ু কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যৌথ অঙ্গীকারেরই বাস্তব প্রতিফলন। বক্তব্যকালে তিনি ঐতিহাসিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের কথা স্মরণ করে জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিশেষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে একসময় সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে বিপুলসংখ্যক নিম গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
উল্লেখ্য, মালদ্বীপ সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করতে বর্তমানে মালদ্বীপে সরকারি সফরে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।