বিনোদন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন উৎসব ‘নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রবাসী বাঙালি ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে দেশীয় সিনেমার পরিচিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং ২ আগস্ট মূল উৎসব ও জমকালো পুরস্কার বিতরণী আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হবে।
‘প্রিয়জন ফিল্মস’ ও ‘লেমন স্টুডিও’-র যৌথ উদ্যোগে এবং ‘আমেরিকান বাংলাদেশি প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন’ (এবিপিএ)-র সার্বিক সহযোগিতায় নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে উৎসবের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে স্থান পেয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
আয়োজকদের সূত্র অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুলাই উৎসবের উদ্বোধনী দিনে প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বিলাই’, ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এবং নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতীর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নয়া মানুষ’। উৎসবের দ্বিতীয় দিন ৩১ জুলাই প্রদর্শিত হবে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইশপাইট’ ও ‘দ্য ইট্যারনাল জার্নি’ এবং মিশুক মনির পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘দেয়ালের দেশ’।
উৎসবের প্রদর্শনী পর্বের শেষ দিন ১ আগস্ট দেখানো হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমেরিকান ড্রিম’ ও ‘ঈদ মোবারক’। এ ছাড়া একই দিনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ এবং প্রসূন রহমান পরিচালিত ‘শিকড়’। প্রতিদিন একাধিক প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্যময় বাংলা চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
তিন দিনের ধারাবাহিক প্রদর্শনী শেষে ২ আগস্ট জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে বসবে উৎসবের চূড়ান্ত সমাপনী ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে অংশ নিতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলী নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন।
উৎসবের প্রথম আসরে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্য থেকে মূল্যায়ন করে সেরা অভিনেতা, সেরা অভিনেত্রী, সেরা পরিচালক ও অন্যান্য কারিগরি বিভাগসহ মোট ২০টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আহমেদ শরীফকে বিশেষ ‘আজীবন সম্মাননা’ দেওয়া হবে।
চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির প্রসারে ভূমিকা রাখা দুটি প্রতিষ্ঠানকেও এই মঞ্চে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা চলচ্চিত্রের বাজার তৈরি ও বিশ্বায়নে অবদানের জন্য ‘বায়োস্কোপ ফিল্মস’ এবং বাংলাদেশে প্রেক্ষাগৃহ সংস্কৃতি আধুনিকায়নে প্রগতিশীল ভূমিকা রাখার জন্য মাল্টিপ্লেক্স নেটওয়ার্ক ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর আমেরিকার মতো আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়মিত বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবের এমন আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বিপণন ও বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।