আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ নির্বাহী ক্ষমাপানের পর নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগের সময় তাকে দেওয়া এই ক্ষমাপানের আট মাস পর তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন।
গত রবিবার একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে হার্নান্দেজ রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে উপস্থিত পরিবারের সদস্য ও রাজনৈতিক সমর্থকদের উপস্থিতিতে তাকে গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে তিনি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে তেগুসিগালপার টনকন্টিন বিমানবন্দরে পৌঁছান।
হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানী তেগুসিগালপায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ওই বছরের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে মাদক ও অস্ত্র পাচারের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউশনের পক্ষে অভিযোগ করা হয়, তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানে সহায়তা করেছিলেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই হার্নান্দেজ বিচারিক অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আইনি অবসান ঘটলেও স্বদেশে হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে পূর্বের পেন্ডিং থাকা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ‘প্যান্ডোরা টু’ নামে পরিচিত একটি ব্যাপক দুর্নীতির তদন্তে হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে রাজনৈতিক প্রচারণা পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থের একটি অংশ তার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয় করা হয়েছিল। তবে একই তদন্তে অভিযুক্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট পোরফিরিও লোবো ও সাবেক অর্থমন্ত্রী উইলফ্রেডো সেরাতোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতোমধ্যে আদালত থেকে খারিজ করা হয়েছে।
হন্ডুরাসের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আগামী ৩ আগস্ট হার্নান্দেজকে প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে স্থানীয় আদালতে হাজির হওয়ার সময়সূচি রয়েছে। চলতি বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালত কর্তৃক স্থগিত করা হয়, ফলে দেশে ফেরার পর তাকে বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়নি। হার্নান্দেজ তার বিরুদ্ধে আনীত সব স্থানীয় অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজের আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়ে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করছেন না, তবে আপাতত স্বীয় দলের নতুন নেতৃত্বের পাশে থেকে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার পরিবার পূর্ব থেকেই দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়, যার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের প্রার্থী পরাজিত হন এবং বর্তমানে প্রেসিডেন্ট নাসরি আসফুরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে রয়েছেন।
হার্নান্দেজের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম মধ্য আমেরিকার দেশটিতে আইনি সংস্কার, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। আগামী আগস্টের শুরুতে নির্ধারিত আদালত শুনানিই নির্ধারণ করবে তার বিরুদ্ধে স্থগিত থাকা রাষ্ট্রীয় মামলার পরবর্তী গতিপথ।