1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আমেরিকান সহায়তার প্রস্তাব: মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক যুক্তরাজ্য সফর করছেন জেলেনস্কি, সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য বেজার জাতীয় জীবনে শিশুদের ভূমিকা অপরিসীম, শিশুদের উন্নয়নেই দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত: বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বদলি ও পদায়নে তিন স্তরের কমিটি গঠন করে নতুন নীতিমালা জারি মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার জাতীয় সংসদের নতুন সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা কিশোরগঞ্জে প্রথম ঢাকার বাইরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ: প্রস্তুতি সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সোনার দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ২,২১৬ টাকা রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৬০ জন গ্রেপ্তার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ছিনতাইকারীর হামলায় অচেতন যুবক উদ্ধার, হাসপাতালে ভর্তি

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

অপরাধ ডেস্ক

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী এলাকা থেকে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত ও অচেতন অবস্থায় মো. ইয়াছিন (৩০) নামের এক যুবককে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সোমবার ভোর চারটার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের পাশে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পুলিশ ও উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, ছিনতাইকারীরা ওই যুবককে মারাত্মক মারধর কিংবা বিষাক্ত চেতনানাশক দ্রব্য প্রয়োগ করে তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল লুট করে কেটে পড়েছে।

উদ্ধার হওয়া মো. ইয়াছিন শ্রীনগর উপজেলার আটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলিফের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী যুবক রাতের বেলা নিজ গন্তব্যে যাতায়াতের সময় মহাসড়কের ওই নির্জন অংশে একদল সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তের কবলে পড়েন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি তাঁকে একা পেয়ে গতিরোধ করে এবং দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তিনি বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করে অথবা চেতনানাশক দ্রব্য প্রয়োগে অচেতন হতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ সমস্ত জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে সড়কের ধারে ফেলে পালিয়ে যায়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর চারটার দিকে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশন একটি জরুরি টেলিফোন কলের মাধ্যমে খবর পায় যে, এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী সংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় মহাসড়কের পাশে পড়ে আছেন। বার্তাটি পাওয়ামাত্রই শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যুবকের আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় যুবকটি পুরোপুরি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। তাঁকে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু করা হয় এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে কোনো বিষাক্ত দ্রব্যাদি বা চেতনানাশক ইনজেকশন কিংবা ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।

দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা-মাওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে ইদানীং রাতের বেলা এবং ভোররাতের দিকে ছিনতাইকারী, ডাকাত ও অজ্ঞান পার্টির সক্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক এবং স্থানীয় পথচারীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের কতিপয় নির্জন পয়েন্ট, ফ্লাইওভারের নিচের এলাকা এবং ছনবাড়ীর মতো এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগস্থলগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা এবং দূরপাল্লার পরিবহন পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের একাকী পেয়ে অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে।

শ্রীনগর থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ টিম হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী যুবকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয় এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী যুবক সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জ্ঞান ফিরে পেলে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার পেছনে জড়িত ছিনতাইকারী চক্রটিকে চিহ্নিত ও তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে জোর অভিযান শুরু করেছে।

এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একের পর এক ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির তাণ্ডবে স্থানীয় জনগণ ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের মাঝে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে এক্সপ্রেসওয়েজুড়ে স্থায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং সার্বক্ষণিক হাইওয়ে পুলিশের টহল জোরদার করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, অতি দ্রুত পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা না হলে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026