1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আমেরিকান সহায়তার প্রস্তাব: মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক যুক্তরাজ্য সফর করছেন জেলেনস্কি, সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য বেজার জাতীয় জীবনে শিশুদের ভূমিকা অপরিসীম, শিশুদের উন্নয়নেই দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত: বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বদলি ও পদায়নে তিন স্তরের কমিটি গঠন করে নতুন নীতিমালা জারি মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার জাতীয় সংসদের নতুন সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা কিশোরগঞ্জে প্রথম ঢাকার বাইরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ: প্রস্তুতি সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সোনার দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ২,২১৬ টাকা রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৬০ জন গ্রেপ্তার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ঘাটতির খবর অস্বীকার ট্রাম্পের, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই নির্মিত ছবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে গোলাবারুদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দেওয়ার খবর জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত রয়েছে, যা তাদের বর্তমান প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। তবে এ সংক্রান্ত সামরিক সতর্কবার্তার খবরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বেশ কিছু উসকানিমূলক ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি। যেখানে ইরানের তেলবাহী জাহাজ জব্দ এবং দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনালে বিমান হামলার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চলমান সংঘাতের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। তবে ট্রাম্প এ ধরনের খবরের সত্যতা সরাসরি নাকচ করে বলেন, মার্কিন অস্ত্রাগার পূর্ণমাত্রায় প্রস্তুত রয়েছে এবং দেশের প্রতিরক্ষা চাহিদার চেয়েও বেশি সামরিক রসদ মজুত আছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তি যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলা করতে সক্ষম।

অস্ত্র ঘাটতি সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একাধিক ছবি শেয়ার করেন। এসব ছবিতে মার্কিন সামরিক শক্তির প্রদর্শন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকাশিত একটি ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজের ওপর মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে ট্রাম্পকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং এর পটভূমিতে একটি ইরানি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়। অন্য একটি কৃত্রিম ছবিতে ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানি টার্মিনালে যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণের চিত্র দেখানো হয়েছে। এছাড়া ‘ওয়ার্ল্ড গার্ডিয়ানস’ এবং অন্যান্য শিরোনামে প্রকাশিত ছবিগুলোতে মার্কিন স্টিলথ ফাইটার ও নৌবাহিনীর টহল প্রদর্শনের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম প্রধান জ্বালানি অবকাঠামো খার্গ দ্বীপকে ঘিরে ট্রাম্পের এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা কেবল প্রতীকী প্রচারণা নয়, বরং চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের এক জটিল কৌশলগত চাল। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ঠেকাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক তৎপরতার কারণে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ সামরিক সম্পদ ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মধ্যে রসদ সরবরাহ বজায় রাখা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ছবি প্রকাশ এবং একই সঙ্গে সামরিক সক্ষমতার জোর দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

ইরানের কৌশলগত অবকাঠামো এবং তেল ট্যাংকার সম্পর্কিত এই মেটাবাস বা ভার্চুয়াল প্রদর্শনী মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উসকানিমূলক ছবি প্রচার ও রাজনৈতিক হুমকির ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সংঘাতের মাত্রা আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। এতে করে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সামরিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে অস্ত্রাগারের ঘাটতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সামরিক মহলের আলোচনার খবর, অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে সামরিক প্রদর্শনী বৈদেশিক নীতির কৌশলগত অবস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে যেকোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন বাধার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026