বিশেষ প্রতিবেদক
সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি জানান, ক্রীড়াকে কেবল শরীরচর্চা বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি স্থায়ী পেশা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ, উদ্যমী ও মানবিক সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান প্রতিভা অন্বেষণ এবং তাদের আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে ধারাবাহিক ও টেকসই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দেশব্যাপী ক্রীড়া চর্চা পুনরুজ্জীবিত করার কৌশলগত অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকে সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ চিহ্নিত করা এবং তাদের সুশৃঙ্খল ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ জাতীয় কাঠামো ভবিষ্যতে জাতীয় দল গঠন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য উচ্চমানের ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেটে এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার পর সারা দেশে সফলভাবে আটটি ইভেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ের অংশ হিসেবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এই প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন যে, আগামী আসরে নতুন করে টেবিল টেনিস ও ভলিবল অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার ফলে মোট ইভেন্টের সংখ্যা ১০টিতে উন্নীত হবে। প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়াতে এবং বেশি সংখ্যক উদীয়মান প্রতিভাকে সুযোগ দিতে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার ব্যাপারে সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তিনি জানান, বাছাইকৃত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার সার্বিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ক্ষেত্রে এই তরুণ প্রতিভাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকার এমন এক ক্রীড়া পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে যেকোনো স্বজনপ্রীতি বা বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল মেধা, কঠোর পরিশ্রম ও যোগ্যতাই হবে সাফল্যের মূল নিয়ামক।
শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুপ্ত প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশ, শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গঠনে খেলাধুলার অপরিহার্যতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, খেলাধুলা মানুষের মাঝে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, নেতৃত্বদান এবং দেশপ্রেমের মতো মৌলিক গুণাবলি সৃষ্টি করে। তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা এই খুদে ক্রীড়াবিদরাই ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে আনবে বলে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।