বিশেষ প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল স্তরের মানুষের পাশাপাশি পেশাজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান—বাঙালি জাতি কখনো কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অন্যায় নীরবে মেনে নেয়নি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনের সেমিনার হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রক্তাক্ত জুলাই এবং পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (ডিইএবি)-এর ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) শাখা।
আলোচনা সভায় প্রকৌশলীদের পেশাগত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। বিদ্যুৎ খাতের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবদান তুলে ধরে প্রধান অতিথি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে যেসব পেশাজীবী নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান নিশ্চিত করেন, তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়াসমূহ পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তরে সাধারণ জনগণ ও পেশাজীবীদের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের ডিপিডিসি শাখার আহ্বায়ক প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্য পেশাজীবী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় প্রকৌশলী তরিকুল হক, প্রকৌশলী রেজাউল করিম, প্রকৌশলী আবুল মনসুর, প্রকৌশলী এএসএম তারেক তুষার, প্রকৌশলী ওবায়দুল আলম এবং শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ ডিপিডিসি ও ডিইএবি’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারী রাজনৈতিক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত পেশাজীবী পরিবারের পুনর্বাসন এবং পুনর্বাসিত সহযোদ্ধাদের কল্যাণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন। একই সঙ্গে সংস্থাটিতে কর্মরত প্রকৌশলীদের পদোন্নতি, পেশাগত বৈষম্য দূরীকরণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে দেশের বিদ্যুৎ খাতের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে আয়োজিত সভায় বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ খাতটিকে বেসরকারীকরণের সম্ভাব্য উদ্যোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তারা। বক্তাদের মতে, বিদ্যুৎ খাত বেসরকারীকরণ করা হলে গ্রাহক পর্যায়ে সেবার ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। খাতটির সার্বিক উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কার, সিস্টেম লস হ্রাস, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকসেবার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার সুপারিশ করেন তারা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের টেকসই নীতি নির্ধারণে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের জন্য নীতিপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান উপস্থিত প্রকৌশলী নেতৃবৃন্দ।