আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি এই পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে দেশটির একাধিক প্রধান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি নিজ থেকেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক ও প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসে। এর ফলে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এসব জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং একাধিক ছাত্র ও যুব সংগঠন রাজপথে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়। আন্দোলনকারীরা এই ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বিশেষ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিপিজি)-সহ একাধিক বিরোধী ও সামাজিক সংগঠনের টানা বিক্ষোভ ও আন্দোলন সরকার এবং শিক্ষ মন্ত্রণালয়ের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শিক্ষাব্যবস্থার এই সঙ্কট মোকাবিলায় এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রমাণের দাবিতে জনমত ক্রমাগত প্রবল হতে থাকায় শেষ পর্যন্ত এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মাধ্যমে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন ও কঠোর আইন প্রণয়ন এবং পুরো পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।