বাংলাদেশ ডেস্ক
ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও সামাজিক পরিবেশের ঘাটতি থাকলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ফেনী শহরের একটি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। তবে এর জন্য ব্যবসায়ী সমাজকে অযথা হয়রানি থেকে মুক্ত রেখে অনুকূল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসায়ের ধরণ পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটলে দেশের সামাজিক বৈষম্যও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
সামাজিক ব্যাধি হিসেবে মাদক ও কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির বিস্তারের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা তরুণ সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে দূরে রাখতে সরকার ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক পরিবেশ সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার চর্চা বাড়িয়ে তরুণদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলতি রাজনৈতিক ঘটনাবলি ও রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত ও ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্তের এখতিয়ারভুক্ত। এর সাথে কোনো প্রকার দলীয় রাজনৈতিক যোগসূত্র নেই। একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে পদত্যাগের যেকোনো সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তাঁর সাংবিধানিক অধিকারের আওতাভুক্ত।
ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ফেনী অঞ্চলে শিল্প-কারখানা স্থাপন, ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।