বাংলাদেশ ডেস্ক
অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ঢাকা ও সান্তিয়াগোতে নিজ নিজ দেশের আবাসিক কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ এবং চিলি। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই উদ্যোগের বিষয়টি উঠে আসে। ম্যানিলায় সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ ম্যাককেনার মধ্যে এ কূটনৈতিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়ে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশ ও চিলির বর্তমান বাণিজ্য সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি দুই দেশ নীতিগতভাবে একটি যৌথ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়। দ্বিপক্ষীয় দ্বিমুখী বাণিজ্যের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এফটিএ বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে দুই পক্ষ আশা প্রকাশ করে।
দক্ষিণ আমেরিকার অর্থনৈতিকভাবে উদীয়মান দেশ চিলি বৈশ্বিক বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বৈঠকে চিলির বাজার থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়, যা বাংলাদেশের শিল্প খাতের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, চিলির বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি করার বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর বাণিজ্যিক উপস্থিতি সেখানে বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দুই দেশের অর্থনীতি ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় সম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল (বিজিবি) বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হলে দুই দেশই নতুন বিনিয়োগ খাত চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে। আলোচনার ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হওয়ায় চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে তার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে তার বৈদেশিক বাণিজ্যের বাজার সম্প্রসারণে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে। অন্যদিকে চিলিও এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী। ম্যানিলার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কেবল কূটনৈতিক মিশনের সম্ভাবনা তুলে ধরেনি, বরং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের একটি নতুন কৌশলগত পথ উন্মোচন করেছে।