বিশেষ প্রতিবেদক
কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে তৈরি হওয়া সাময়িক সমস্যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দ্রুতই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের কাঙ্ক্ষিত চাপ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
আজ শনিবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।
গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে পুনঃরূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই মূলত দেশের বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানা সচল থাকে এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা হয়। বর্তমানে দুটি এফএসআরইউর মধ্যে একটিতে কারিগরি জটিলতা দেখা দেওয়ায় সামগ্রিক জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের চাপ কমে গেছে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলা যৌথভাবে কাজ করছে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।
অন্য দিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর পেছনে মূল কারণ হলো নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। অতীতে সমাজে নৈতিক শিক্ষার যে দৃঢ় অবস্থান ছিল, বৈষয়িক প্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাতে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদর্শিক ও নৈতিক মূল্যবোধে রূপদান করতে শিক্ষকমণ্ডলীসহ সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় জেলা পুলিশ ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিনিধি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ধর্মীয় ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য রোধে নিজস্ব মতামত পেশ করেন।