বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের ব্যাংক খাত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসের ব্যবধানে অন্তত এক কোটি টাকা জমা থাকা ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬৪৫টিতে। এসময়ের মধ্যে নতুন করে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ২ হাজার ২০৯টি আমানতকারী হিসাব। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি জমা থাকা আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা ছিল ৩৮ হাজার ৪৩৬টি। তিন মাসের ব্যবধানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ হাজার ৬৪৫টিতে পৌঁছায়। সার্বিকভাবে দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি হিসেবে পরিচিত এসব হিসাবের বড় একটি অংশই বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পরিচালনাধীন।
প্রতিবেদনে অতি উচ্চমানের সঞ্চয়কারীদের হালনাগাদ চিত্রও উঠে এসেছে। তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে ব্যাংকগুলোতে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত জমা থাকা গ্রাহক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫টিতে। ১ বছরের ব্যবধানে এ শ্রেণির আমানতকারীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত বছরের একই সময়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি জমা থাকা আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ২২ জন। পরবর্তীতে তা গত বছরের ডিসেম্বরে নেমে দাঁড়ায় ১৩টিতে। সেখান থেকে মার্চে নতুন করে ২ জন যুক্ত হওয়ায় এই সংখ্যা ১৫টিতে উন্নীত হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। সার্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকার অঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়া, কিংবা বড় অঙ্কের সঞ্চয় ব্যাংকিং চ্যানেলে জমা হওয়ার ফলেই আমানতের পরিমাণ এভাবে বাড়ছে। তবে এই ধরনের বড় আমানতের বৃদ্ধি একদিকে ব্যাংকগুলোতে তারল্যের ইতিবাচক সরবরাহ নিশ্চিত করে, অন্যদিকে তা দেশের অভ্যন্তরে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা কিংবা ধনী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যকার আয় বৈষম্য বৃদ্ধির একটি নির্দেশক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনগুলো সাধারণত দেশের অর্থনৈতিক প্রবণতা, আমানতের ধরন এবং সামগ্রিক মানি সাপ্লাইয়ের সূচক বিশ্লেষণ করতে ব্যবহৃত হয়। আগামী প্রান্তিকগুলোতে এই জাতীয় বড় অঙ্কের সঞ্চয় ও আমানত জমার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে কি না, সেদিকে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বাজার সংশ্লিষ্টদের চোখ রয়েছে।