বাংলাদেশ ডেস্ক
নতুন রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনীত করা হবে—সেটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নীতি নির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে স্থির করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ বিষয়ে সংবিধান এবং প্রচলিত আইনের বিধিবিধান অনুসরণ করে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার দুপুরে বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হবে। এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই বৈঠক শেষেই বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশবাসীকে জানানো সম্ভব হবে। এ সময় নিজের নাম নিয়ে তৈরি হওয়া নানা গুঞ্জনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
এর আগে বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক তর্কের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে দেশের প্রকৃত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজের দিকে জোর মনোযোগ দিতে হবে। দেশের জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বা অপচয় হলেও গবেষণার মতো মৌলিক জায়গায় এখনো পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই দেশের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এই খাতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিতকরণ ও সার্বিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পল্লী উন্নয়ন মানে কেবল অবকাঠামোগত রাস্তাঘাট আর বাড়িঘর তৈরি করা নয়, বরং মূল লক্ষ্য হতে হবে গ্রামীণ কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা ও সার্বিক জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা। দেশে সঠিক সংরক্ষণ ও আধুনিক বাজারজাতকরণ কাঠামোর অভাবে কৃষকেরা কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সংকট সমাধানের লক্ষ্যে দেশের কৃষি গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত ভূমিকা ও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিতে হবে।
সংগঠিত আর্থিক অনিয়ম ও বিগত আমলের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সাড়ে চার মেয়াদে বাস্তবায়নের দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকলেও কেবল কাগজে-কলমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় ও অনিয়ম করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের বিষয়ে দেশের তরুণ সমাজকে কেবল প্রচলিত চাকরি বা ঠিকাদারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল না থেকে আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বগুড়ার স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।