1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ঢাকা ও সান্তিয়াগোতে আবাসিক মিশন খোলার সম্ভাব্যতা যাচাই বাংলাদেশ ও চিলির বঙ্গভবনে অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার বিষয়ে আশ্বস্ত করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সিলেট নগরীর যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন মেগা প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণা বাণিজ্য ও ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ না থাকলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়: পরিবেশমন্ত্রী ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র জমা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও ডেটাভিত্তিক গবেষণাই প্রকৃত সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী এক কোটি বা তার বেশি জমা থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়াল নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় বৈঠকে: মির্জা ফখরুল

জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব বিপুল সমর্থনে গৃহীত

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সংলাপ, সংহতি ও বৈশ্বিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, তীব্র ভূরাজনৈতিক সংঘাত, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সনদের মূল নীতিমালার আলোকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রস্তাবটি পাসের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রস্তাব উপস্থাপনকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল বিশ্ব সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, টেকসই শান্তি অর্জন, মানবিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক সমাজে সহনশীলতার পরিবেশ তৈরি করতে সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ এবং বিভাজনের বিপরীতে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যে বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এই প্রস্তাবের সুদূরপ্রসারী উপযোগিতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে প্রস্তাবটি অনুমোদন ও সর্বসম্মত সমর্থনে যেসব সদস্য রাষ্ট্র গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছে, তাদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে তৎকালীন সরকারের কূটনৈতিক সফলতার ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘে প্রথম ‘শান্তির সংস্কৃতি’ (Culture of Peace) বিষয়ক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পর থেকে গত প্রায় আড়াই দশক ধরে বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা প্রচার এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অন্যতম মূল এজেন্ডা হিসেবে এটি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। ১৯৯৯ সালের পর থেকে প্রতি বছরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই নীতিমালার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে নতুনভাবে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, যা বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় যখন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আঞ্চলিক যুদ্ধ, জাতিগত বিদ্বেষ ও চরমপন্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের এই প্রস্তাব গৃহায়ন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। আন্তর্জাতিক বিষয়ালাপ ও কূটনীতি বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এই সর্বসম্মত সমর্থন মূলত বিশ্ব শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা পুনর্গঠনে বাংলাদেশ যে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা রাখছে, তারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রস্তাবটিতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং যুব সমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সহিংসতা প্রতিরোধ ও অহিংসার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার দিকনির্দেশনা রয়েছে।

বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গৃহীত এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রতিটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তির সংস্কৃতি চর্চা আবশ্যক। সাধারণ পরিষদে এ প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায় পুনর্নবীকরণ করল যে, সামরিক শক্তি বা সংঘাত নয়—বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিক চেতনা এবং স্থায়ী কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026