ক্রীড়া প্রতিবেদক
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বিশ্বজোড়া ফুটবলপ্রেমীদের নজরকাড়া কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা এবার দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। চিলির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর সাথে চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে কেপ ভার্দের সাফল্য এবং ভোজিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিবেচনা করে দক্ষিণ আমেরিকান এই ক্লাবটি তাকে নিজেদের রক্ষণভাগ মজবুত করার উদ্দেশ্যে দলে ভিড়িয়েছে।
পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব চাভেসের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে মাঠে ছিলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। মুক্ত খেলোয়াড় হিসেবে তাকে দলে নিতে বেশ কয়েকটি মহাদেশের একাধিক ক্লাব আগ্রহ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে বেছে নেন তিনি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোলো কোলোর হয়ে মাঠে নামবেন ভোজিনহা। ক্লাবের নীতি নির্ধারকরা ইতোমধ্যে এই দলবদলের বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর কোপা লিবার্তাদোরেসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোলো কোলো তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৭ সালের কোপা লিবার্তাদোরেস প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের সাফল্য অর্জনই ক্লাবটির মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলের গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব একজন অতি অভিজ্ঞ ও চাপের মুখে শান্ত থেকে ম্যাচ বের করে আনার ক্ষমতাসম্পন্ন গোলরক্ষকের ওপর ন্যস্ত করতে চেয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ভোজিনহার দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তার অসাধারণ উপস্থিতি ক্লাব কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক যাত্রায় ভোজিনহা ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। গ্রুপ পর্বে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ও স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তার অসাধারণ সেভ এবং কৌশলগত অবস্থান বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়। পরবর্তীতে টুর্নামেন্টের শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও একাধিক নিশ্চিত গোল প্রতিহত করে বিশ্ব ফুটবল বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এই ৩৯ বছর বয়সী তারকা। বিশ্বকাপের এই অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য তাকে রাতারাতি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের পর সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমেও তার অনুসারি সংখ্যা বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, যা তার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ বহন করে।
বিশ্বকাপের পরপরই উত্তর আমেরিকার মেজর লিগ সকারের জনপ্রিয় দল ইন্টার মিয়ামিসহ একাধিক মহাদেশের স্বনামধন্য ক্লাব তাকে দলে ভেড়ানোর জোর তৎপরতা চালিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবলের ধরন ও ঐতিহ্যকে পরখ করে দেখার ইচ্ছ থেকেই চিলিয়ান ক্লাবের প্রস্তাবকে প্রাধান্য দেন ভোজিনহা। চিলির এই ক্লাবে তিনি সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ ফার্নান্দো এল তানো ওরতিজকে, যার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া দলে তার সতীর্থ হিসেবে থাকবেন চিলির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আর্তুরো ভিদালসহ বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার, যা ভোজিনহার অভিযোজন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩৯ বছর বয়সেও একজন পেশাদার ফুটবলারের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে এই ধরনের ধারাবাহিকতা ও প্রভাব বজায় রাখা বেশ বিরল ঘটনা। কেপ ভার্দের মতো তুলনামূলক ছোট একটি দ্বীপরাষ্ট্র থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে প্রভাব বিস্তার করা এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ ক্লাবে চুক্তি স্বাক্ষর করা ভোজিনহার পেশাদারিত্বেরই পরিচায়ক। কোলো কোলোর জার্সিতে নতুন এই অভিজ্ঞতার সূচনা চিলির ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং কোপা লিবার্তাদোরেসের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় ক্লাবটিকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা।