শিক্ষা ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দুর্যোগের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এছাড়া বন্যার প্রভাবে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাও বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে থাকা এইচএসসি পরীক্ষার অবশিষ্ট বিষয়গুলোর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একইসাথে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও এই স্থগিতাদেশের আওতায় থাকবে। স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর সংশোধিত সময়সূচি ও পরীক্ষা গ্রহণের পরবর্তী তারিখ পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হবে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পৃথক নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথা নিয়মে অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও চট্টগ্রামের সড়কপথ ও স্থানীয় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে বা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পর নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্যাদি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বন্যা দুর্গত এলাকায় জনদুর্ভোগ চরমে। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হলে তা শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপের কারণ হতে পারে, তবে জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরীক্ষার পরিবেশ বজায় রাখাকেই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিজ নিজ অবস্থানে থেকে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।