বাংলাদেশ ডেস্ক
সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য থাকবে না। সবাইকে সাথে নিয়েই সরকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এগিয়ে যেতে চায়।
সাক্ষাতকালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের নানাবিধ সংকট ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। দাবিসমূহের মধ্যে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করতে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় প্রদান এবং সংবিধানে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার নির্মাণ, বনাঞ্চল বা সরকারি প্রকল্পের নামে বসতি উচ্ছেদ বন্ধ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি জানানো হয়।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে যদি সুশাসন থাকত এবং অর্থ পাচার রোধ করা যেত, তবে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান আগেই সম্ভব হতো। বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি, যা পূরণে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
সরকার প্রধান আরও বলেন, বিগত শাসনামলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের অংশ হিসেবে এই খাতগুলোর উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এক সময়ের ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যায় এবং বর্তমানে সেগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যকারিতা পুনরায় সচল করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংয়ের মতো জীবনরক্ষাকারী মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত কর হ্রাসের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। সরকার পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে একটি বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এবং ১৭টি জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।