বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০টি শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
বৈঠকে দুই দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সৌদি রাষ্ট্রদূত জানান, দেশটির সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতি বছর ৫০০টি বৃত্তি বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্যোগটি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করা হয়েছে। শিক্ষার প্রসারে এই বৃত্তি প্রদান উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল সৌদি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থান শক্তিশালী করা। বৈঠকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পদ্ধতিগত জটিলতাগুলো নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সৌদি আরবের শ্রমবাজার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে প্রায় ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি সৌদি আরবের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখছে। এ প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শ্রম সম্পর্ক আরও সুসংহত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা মাত্রার ওপর আলোকপাত করা হয়। বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বৃদ্ধি, জনমানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজতর করা এবং বিভিন্ন নতুন খাতে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌদি প্রতিনিধি দল রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। এই সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস অ্যাম্বাসেডর খালিদ সাঈদ এম. আল হাদাল এবং ডেপুটি হেড অব দ্য কনসুলার সেকশন মুহাম্মদ ফাহাদ ধি. আল সুহাইমি। সরকারি পর্যায়ে এমন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা দুই দেশের সম্পর্কের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।