1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ৩২ জনের মৃত্যু, ক্ষয়ক্ষতি ৮৯০ কোটি টাকা মধ্যপ্রাচ্যে টানা ৩য় রাত ইরানে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের হামলা ওমান জলসীমায় আমিরাতের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১ পায়রা বন্দরে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জলপথ মাশুলের ঘোষণা, ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নৌ-অবরোধের আশঙ্কা কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে জোর সরকারের, প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময় আরব সাগরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মার্কিন পাইলটের মৃত্যু, আহতের সংখ্যা ৪০০ পার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নে কোনো ত্রুটি বা ভুল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের তার জন্য পুরো নম্বর দেওয়া হবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মালয়েশিয়ায় অভিবাসনবিরোধী বিশাল অভিযানে ২৯০ বাংলাদেশিসহ ৫০৩ বিদেশি আটক

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ৩২ জনের মৃত্যু, ক্ষয়ক্ষতি ৮৯০ কোটি টাকা

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারে টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ব্যাপক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রলয়ংকরী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। জেলার ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা প্লাবিত হয়ে প্রায় ২৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা। এতে বসতবাড়ি, সড়ক, বেড়িবাঁধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার প্রাথমিক আর্থিক পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা। মাঠপর্যায়ে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনে জেলায় মোট ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অতিভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে পেকুয়া উপজেলা, যার ৯৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এ ছাড়া মাতামুহুরীতে ৮৫ শতাংশ, চকরিয়ায় ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়ায় ৬৫ শতাংশ, মহেশখালীতে ৫০ শতাংশ, রামুতে ৩৫ শতাংশ, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফে ২৫ শতাংশ এবং ঈদগাঁও উপজেলার ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ দীর্ঘদিন পানিবন্দি অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উখিয়া উপজেলায়। সেখানে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ১৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বন্যার কারণে জেলার ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পরিবার প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বানের জলে সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি। এর মধ্যে পেকুয়া উপজেলায় সর্বোচ্চ ৪৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া চকরিয়ায় ৩০০টি, কুতুবদিয়ায় ২৫০টি, মহেশখালীতে ২০০টি, মাতামুহুরীতে ১৯০টি, টেকনাফে ১০০টি, উখিয়ায় ৫০টি, ঈদগাঁওয়ে ৩০টি, রামুতে ২৫টি এবং কক্সবাজার সদরে ১৮টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতেও বন্যা বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক সরকারি হিসাব মতে, জেলার মোট ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও সেতুর ক্ষতিতে যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায়। চকরিয়ায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট, মাতামুহুরীতে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট এবং পেকুয়ায় ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সদরে ২০ কিলোমিটার, রামুতে ৫০ কিলোমিটার, কুতুবদিয়ায় ৯ কিলোমিটার, উখিয়ায় ৬ কিলোমিটার, টেকনাফে ৫ কিলোমিটার এবং ঈদগাঁওয়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে টেকনাফে ১৫টি, উখিয়ায় ১২টি, রামুতে ৫টি, কক্সবাজার সদরে ৪টি এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় দুটি করে সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও; যার মধ্যে পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ১৫টি করে মোট ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন ৩৮০ দশমিক ২৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৪৪টি স্থানে ভাঙন ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় প্রায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ এবং একটি সেতুর অংশ ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

দুর্যোগ পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জানান, বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের সুরক্ষায় জেলায় মোট ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭ হাজার ৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২৯৮ মেট্রিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও অবকাঠামো মেরামতে দ্রুতই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026