পরিবেশ প্রতিবেদক
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে পায়রা বন্দরে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে পায়রা বন্দরের অভ্যন্তরে একটি ফলদ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এই মহাপরিকল্পনার উদ্বোধন করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ার ঘোষণার অংশ হিসেবে বন্দর এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধুমাত্র চারা রোপণই নয়, বরং এই বৃক্ষগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমটি সার্বক্ষণিক চারাগুলোর বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় নজরদারি করবে, যাতে উপকূলীয় বৈরী আবহাওয়াতেও গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
পায়রা বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় এই উপকূলীয় এলাকা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হয়। বন্দর এলাকায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে একটি প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় পর্যায়ক্রমে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে, যা মাটির ক্ষয়রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
উদ্বোধনকালে পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় বনায়ন অত্যন্ত জরুরি। সরকারের পরিবেশবান্ধব সবুজ বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার ও জাতীয় লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বন্দর এলাকাকে শুধু সবুজায়িত ও দৃষ্টিনন্দনই করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং যেকোনো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে একটি শক্তিশালী সবুজ বেষ্টনী হিসেবে কাজ করবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়রা বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শিল্প এলাকায় এই ধরনের বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি এই বনায়ন প্রকল্প স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাটির উর্বরতা ধরে রাখতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় মাটির ক্ষয়রোধ এবং ঝড়-ঝাপটা থেকে বন্দর অবকাঠামো রক্ষা করতে এই সবুজ বেষ্টনী দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ঢাল হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।