বিশেষ প্রতিবেদক
ওমান জলসীমায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল। এই হামলার পর পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, আক্রান্ত জাহাজ দুটির মধ্যে ‘মোম্বাসা’ নামের একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। হামলায় জাহাজ দুটিতে তীব্র অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। তবে ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল তৎপরতা শুরু করে এবং বর্তমানে দুটি জাহাজেরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘নির্লজ্জ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন। নিজ দেশের সীমানা, জনগণ এবং বাসিন্দাদের জানমাল সুরক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সার্বভৌম অধিকার আমিরাতের রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই হামলার উপযুক্ত ও কড়া জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন কূটনৈতিক মিশন এক নির্দেশনায় বুধবার পর্যন্ত তাদের সব ধরনের পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎকার বাতিল ঘোষণা করেছে। আগামী দুই দিন যাদের সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারিত ছিল, তাদের আপাতত দূতাবাস বা কনস্যুলেটে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরের ওপর নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ করার পর থেকে এই দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা ভিন্ন মাত্রা লাভ করে। এই বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটল, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এই হামলার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।