বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজারে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। বন্যায় জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে পাঁচটি উপজেলা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের প্রথম দিন থেকেই দুর্গতদের উদ্ধার এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির আরও উন্নতি হলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে মূল মনোযোগ দেওয়া হবে। বিশেষ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্য খামারি এবং গবাদি পশুর মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সমন্বিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারপ্রধান শুরু থেকেই কক্সবাজারসহ বন্যাকবলিত জেলাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠপর্যায়ে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
দুর্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত এক সপ্তাহে কক্সবাজারে ৮০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অত্যন্ত বেশি। সাধারণত পুরো জুলাই মাসে এই অঞ্চলে গড়ে প্রায় ৯০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে এমন অস্বাভাবিক ও ভারি বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং বঙ্গোপসাগরের বিরূপ আবহাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের সমন্বিত ও আন্তরিক ভূমিকার প্রশংসা করেন সরকারের এই প্রতিনিধি। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান বন্যা পরিস্থিতি, সরকারি সহায়তার বর্তমান চিত্র ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় জরুরি সহায়তার ঘাটতি থাকলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধান কর্মকর্তারা। এছাড়া জেলার ১০টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সভায় যুক্ত হয়ে নিজ নিজ এলাকার সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।